Sponsored by

বাংলাদেশের ক্রিকেট সিরিজ ক্যালেন্ডার ২০২৬: এ বছরের সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ২০২৬ সালের Test ODI ও T20I ম্যাচ সূচি

বাংলাদেশের ক্রিকেট সিরিজ ক্যালেন্ডার ২০২৬: এ বছরের সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ

২০২৬ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিতে রয়েছে তিন ফরম্যাটের ম্যাচ, আর টাইগারদের খেলতে হবে তিনটি ভিন্ন মহাদেশে।

এখন পর্যন্ত কোন কোন সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে, কেন এবারের সূচি অন্য বছরের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পরিকল্পনার সঙ্গে এই সূচির সম্পর্ক কী—চলুন দেখে নেওয়া যাক।

২০২৬ সালে নিশ্চিত হওয়া সিরিজ ও সফর

  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ — এপ্রিল ও মে ২০২৬ জুড়ে ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ম্যাচগুলো শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের বিএসএফএলএমআর ক্রিকেট স্টেডিয়াম-সহ বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
  • পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ — চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অংশ। ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওডিআই সিরিজ — সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে।
  • নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২০২৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর — দুটি টেস্ট, তিনটি ওডিআই এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক। টেস্ট দুটি ২০২৫-২০২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অংশ।

বছর এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সফরসূচিতে আরও ম্যাচ যুক্ত হতে পারে। ফলে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি থাকবে।

এবারের সূচি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচগুলো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ঘরের পরিচিত পরিবেশের বাইরে বাংলাদেশ কেমন পারফর্ম করে, তার ওপর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলের অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সেঞ্চুরিয়ন বা ওয়ান্ডারার্সের মতো মাঠে গতি ও বাউন্স অনেক বেশি থাকে, যা বাংলাদেশের ধীরগতির এবং স্পিন সহায়ক উইকেটের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে পরপর সিরিজ হওয়ায় বাংলাদেশের দর্শকেরা তিন ধরনের ক্রিকেট স্টাইল দেখার সুযোগ পাবেন। নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত সিম বোলিং, পাকিস্তানের পেস ও স্পিনের বৈচিত্র্য এবং অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক শুরুর সারির ব্যাটিং—প্রতিটি সিরিজই আলাদা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।

তিন ফরম্যাটের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হয়েছে

২০২৬ সালের সূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো টেস্ট এবং সাদা বলের ক্রিকেটকে আলাদা সময়ে না রেখে পুরো বছরজুড়ে মিলিয়ে সাজানো হয়েছে।

ফলে বিশেষ করে যারা তিন ফরম্যাটেই খেলেন, তাদের বারবার খেলার ধরন বদলাতে হবে। কোচিং স্টাফ ও নির্বাচকেরা এটাকে আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ভালো প্রস্তুতি হিসেবেই দেখেন।

সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ঘরের মাঠের টেস্টের বড় একটি অংশ সিলেটে হচ্ছে। এখানকার উইকেট তুলনামূলক দ্রুত এবং ব্যাটিংয়ের জন্য বেশি সত্যিকারের বাউন্স দেয়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার বিসিবির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও সিলেটের গুরুত্ব বাড়ছে।

বছরজুড়ে কোন ম্যাচগুলো বেশি নজরে রাখবেন

যারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলো বেছে দেখতে চান, তাদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজ সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এটাই বছরের সবচেয়ে কঠিন বিদেশ সফরের চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রেও সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওডিআই সিরিজও বাংলাদেশের ওডিআই দলের গভীরতা কতটা উন্নত হয়েছে, সেটা বোঝার ভালো সুযোগ। কারণ গত এক দশকে অস্ট্রেলিয়া এই ফরম্যাটের সবচেয়ে ধারাবাহিক শক্তিশালী দলগুলোর একটি।

বছরের শেষের দিকের কিছু ম্যাচের সঠিক তারিখ ও ভেন্যু এখনো সম্প্রচারকারী এবং ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই প্রতিটি সিরিজের কাছাকাছি সময়ে বিসিবির আনুষ্ঠানিক মাধ্যম দেখে সময়সূচি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে ভালো।

ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা কীভাবে করবেন

টেস্ট ক্রিকেট দেখতে হলে কয়েক দিন ধরে ধৈর্য নিয়ে ম্যাচ অনুসরণ করতে হয়। অন্যদিকে ওডিআই বা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক একদিনেই বেশি দ্রুত ও উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেয়।

যেহেতু এবারের সূচিতে দুই ধরনের ক্রিকেটই বারবার একে অপরের মধ্যে এসেছে, তাই বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট এবং ঘরের মাঠে প্রতিটি নতুন সিরিজের প্রথম ম্যাচ আগেই ক্যালেন্ডারে রেখে দেওয়া ভালো। কারণ সিরিজের প্রথম ম্যাচই অনেক সময় পরবর্তী ম্যাচগুলোর মুড ঠিক করে দেয়।

সময় অঞ্চলের বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ম্যাচের স্থানীয় সময় বাংলাদেশের ম্যাচের সময় থেকে আলাদা হবে। তাই ম্যাচ শুরুর কয়েক দিন আগে আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারের সময়সূচি দেখে নেওয়াই ভালো।

সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের সূচি কেমন?

সাম্প্রতিক অনেক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের সূচির সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—একই বছরে বাংলাদেশের মাটিতে একাধিক বড় পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে। সাধারণত এক বছরে এক বা দুটি বড় ঘরের মাঠের সিরিজ দেখা যায়।

কিন্তু এবার নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলার কারণে বাংলাদেশের দলের গভীরতা যাচাই করার জন্য নির্বাচকেরা অনেক বেশি সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে খেলোয়াড় পরিবর্তন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগও কম থাকবে। কারণ প্রায় প্রতিটি সিরিজের সঙ্গেই র‍্যাঙ্কিং, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা ভবিষ্যতের দল গঠনের গুরুত্ব জড়িত। এ কারণে খেলোয়াড়দের চাপ সামলানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্প্রচার ও স্পনসরশিপের দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ

এত ব্যস্ত ঘরের মাঠের সূচি বিসিবির জন্য বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে প্রতিটি ঘরের মাঠের সিরিজ থেকে সম্প্রচার এবং স্পনসরশিপের আয় আসে। এই অর্থ ঘরোয়া ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়।

দর্শকদের কাছে এই বাণিজ্যিক দিকটা খুব বেশি চোখে না পড়লেও ক্রিকেট বোর্ডগুলো বড় দলের বিপক্ষে যতটা সম্ভব ঘরের মাঠের সিরিজ আয়োজন করতে আগ্রহী থাকার অন্যতম কারণ এটি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাটিতে তিনটি আলাদা পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে সিরিজ থাকা তাই ক্রিকেট ও বাণিজ্য—দুই দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য।

প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন

২০২৬ সালে কি বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে?

হ্যাঁ। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে। সেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওডিআই এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে।

২০২৬ সালের সূচিতে কোন ফরম্যাটের ম্যাচ সবচেয়ে বেশি?

এ বছর সূচি তিন ফরম্যাটে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ। শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই তিন ফরম্যাটের ম্যাচ রয়েছে।

সর্বশেষ ম্যাচসূচি কোথায় পাওয়া যাবে?

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস, কারণ বছর চলার সঙ্গে ম্যাচের সূচি বদলাতে পারে।

Related posts

ইডেন গার্ডেন্সে আলোর নিচে গোলাপি বল দিয়ে 2019 সালের দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত

মানিয়ে নেওয়ার খুব কম সুযোগ নিয়ে এসেছিল ঐতিহাসিক প্রথম অভিজ্ঞতা 22 নভেম্বর

প্যাভিলিয়নে ব্যাটাররা প্রস্তুত থাকার সময় কখন ইনিংস ঘোষণা করবেন তা ভাবছেন টেস্ট অধিনায়ক

নিজেদের ইনিংস শেষ করার বৈধ উপায় হলো ইনিংস ঘোষণা টেস্ট ক্রিকেটে একটি

ক্রিকেট বল ছাড়ার আগে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে রান আউটের চেষ্টা করছেন বোলার

আইন অনুযায়ী এই আউটের ধরন রান আউট নন-স্ট্রাইকার আগেভাগে ক্রিজ ছেড়ে গেলে

Recent Posts

ইডেন গার্ডেন্সে আলোর নিচে গোলাপি বল দিয়ে 2019 সালের দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত

ব্লগ শিরোনাম: বাংলাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট: 2019 সালের গোলাপি বলের ম্যাচ যা শিখিয়েছিল

মানিয়ে নেওয়ার খুব কম সুযোগ নিয়ে এসেছিল ঐতিহাসিক প্রথম অভিজ্ঞতা 22 নভেম্বর 2019 থেকে কলকাতার

Read More
ক্রিকেট বল ছাড়ার আগে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে রান আউটের চেষ্টা করছেন বোলার

ব্লগ শিরোনাম: নন-স্ট্রাইকার রান আউটের নিয়ম: বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের যা জানা দরকার

আইন অনুযায়ী এই আউটের ধরন রান আউট নন-স্ট্রাইকার আগেভাগে ক্রিজ ছেড়ে গেলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বোলার

Read More
লাল বলের কন্ডিশনে চার দিনের জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাররা

ব্লগ শিরোনাম: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট লিগ: টেস্ট উন্নয়নে চার দিনের ক্রিকেট কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের সাদা বলের প্রতিযোগিতা থেকে এনসিএলের উদ্দেশ্য কেন আলাদা জাতীয় ক্রিকেট লিগ বাংলাদেশের ঘরোয়া কাঠামোর

Read More
টেস্ট ম্যাচে পুরোনো লাল বল ব্যবহার করছেন বাংলাদেশের পেসার, আর ফিল্ডাররা বলের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখছেন

ব্লগ শিরোনাম: টেস্ট ক্রিকেটে রিভার্স সুইং: বাংলাদেশের জন্য পুরোনো বলের দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন বল সাহায্য করা বন্ধ করলে রিভার্স সুইং কেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন বলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত

Read More
টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিন বোলিং করছেন তাইজুল ইসলাম

ব্লগ শিরোনাম: টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুল ইসলাম: তার বাঁহাতি স্পিনকে যেভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ

তাইজুলের টেস্ট ভূমিকা সাধারণ বাঁহাতি স্পিনের চেয়ে কেন আলাদা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য তাইজুল ইসলামের

Read More
Scroll to Top