Sponsored by

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস: শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব বিপিএল চ্যাম্পিয়ন

২০১২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বিপিএল চ্যাম্পিয়ন দলের ইতিহাস ও BPL ট্রফি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস: শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব বিপিএল চ্যাম্পিয়ন

২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতি মৌসুমেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নতুন চ্যাম্পিয়ন পেয়েছে। এতবার শিরোপা হাতবদল হওয়ার কারণেই বিপিএল এখন এশিয়ার সবচেয়ে জমজমাট ও অনিশ্চিত টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর একটি।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বিপিএলের শিরোপার পুরো ইতিহাস, কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি সবচেয়ে বেশি সফল, কোন রেকর্ডগুলো এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব এত বেশি কেন।

যেভাবে বিপিএল হয়ে উঠল বাংলাদেশের প্রধান টি-টোয়েন্টি লিগ

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০১২ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হিসেবে বিপিএল চালু করে। লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও বিগ ব্যাশ লিগের মতো একটি বড় টি-টোয়েন্টি আসর তৈরি করা।

এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে লম্বা আন্তর্জাতিক সিরিজের ফাঁকে দর্শকদের জন্য দ্রুতগতির ও উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট উপভোগ করার সুযোগ তৈরি করা।

তবে বিপিএল প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক সংকটের কারণে ২০১৪ সালের আসর বাতিল করা হয়। পরে করোনা মহামারির বিধিনিষেধের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালেও টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণেই বিপিএল চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় কয়েকটি বছর বাদ পড়েছে।

এসব বাধার পরও বিপিএল বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক আসরে পরিণত হয়েছে। দেশের সেরা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশি তারকারাও এখানে নিয়মিত খেলেছেন।

বিপিএলের বেশিরভাগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে হলেও ফাইনালের জন্য মিরপুরই সবচেয়ে পরিচিত মঞ্চ।

মৌসুমভিত্তিক সব বিপিএল চ্যাম্পিয়ন

  • ২০১২: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স — বরিশাল বার্নার্সকে ৮ উইকেটে হারায়
  • ২০১৩: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স — টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন
  • ২০১৫: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স — বরিশাল বুলসকে ৩ উইকেটে হারায়
  • ২০১৬: ঢাকা ডায়নামাইটস
  • ২০১৭: রংপুর রাইডার্স — ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারায়; ফাইনালে ক্রিস গেইলের অপরাজিত ১৪৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস
  • ২০১৮: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
  • ২০১৯-২০২০: রাজশাহী রয়্যালস — খুলনা টাইগার্সকে ২১ রানে হারায়
  • ২০২২: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স — ফরচুন বরিশালকে মাত্র ১ রানে হারায়
  • ২০২৩: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স — চতুর্থ শিরোপা
  • ২০২৪: ফরচুন বরিশাল — তামিম ইকবালের অধিনায়কত্বে প্রথম শিরোপা
  • ২০২৫: ফরচুন বরিশাল — চিটাগং কিংসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা

প্রতি মৌসুমেই এই তালিকায় যোগ হয়েছে নতুন গল্প। সাম্প্রতিক বিপিএল ফাইনালগুলোও বেশিরভাগ সময় একপেশে না হয়ে শেষ পর্যন্ত জমে উঠেছে।

২০১৪ এবং ২০২০-২০২১ সালের বিরতিগুলোও বিপিএল ইতিহাসের একটি অংশ। এসব ঘটনার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ফরম্যাট নতুন করে সাজাতে হয়েছে।

বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি

চারটি শিরোপা নিয়ে বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটি ২০১৫, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

কুমিল্লার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা। কোনো একটি সময়ে একচেটিয়া আধিপত্য না থাকলেও কয়েক মৌসুম পরপরই তারা আবার শিরোপা জিতেছে। দল গঠনের ক্ষেত্রেও তারা শুধু বড় বিদেশি তারকার পেছনে না ছুটে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি বিভিন্ন সময়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং পরে ঢাকা ডায়নামাইটস নামে খেলেছে। তারা মোট তিনবার শিরোপা জিতেছে, যার বেশিরভাগই বিপিএলের শুরুর দিকের আসরে। রাজধানীর দল হওয়ায় সেই সময় স্পনসর ও ভালো খেলোয়াড় টানার ক্ষেত্রে ঢাকার কিছু বাড়তি সুবিধাও ছিল।

আর সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সফল দল ফরচুন বরিশাল। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা বিপিএলের শক্তির ভারসাম্যই বদলে দিয়েছে।

বরিশালের সাফল্যের বড় কারণ ছিল শেষের ওভারগুলোতে শক্তিশালী বোলিং এবং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারে এমন ওপেনিং জুটি। এখন অন্য অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও একই ধরনের দল সাজাতে দেখা যাচ্ছে।

যে রেকর্ড ও মুহূর্তগুলো এখনো আলোচনায়

  • বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় পুরস্কার জিতেছেন সাকিব আল হাসান। বিভিন্ন মৌসুম মিলিয়ে তিনি চারবার এই পুরস্কার পেয়েছেন।
  • ২০১৭ সালের ফাইনালে ক্রিস গেইলের অপরাজিত ১৪৬ রান এখনো বিপিএল ফাইনালের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যক্তিগত ইনিংস।
  • ২০২২ সালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশালের ফাইনাল মাত্র ১ রানের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়েছিল—বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে টানটান ফাইনালগুলোর একটি।

শুধু বড় রেকর্ড নয়, তরুণ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণ করার বড় মঞ্চও হয়ে উঠেছে বিপিএল। অনেক দেশি ক্রিকেটার বিপিএলের চাপের ম্যাচে ভালো পারফর্ম করে দ্রুত জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে এসেছেন। শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করলে হয়তো তাদের আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতো।

এ কারণেই বিপিএলের গুরুত্ব শুধু ট্রফির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ট্রফির বাইরেও বিপিএল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আর্থিক ভিত্তি এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট। এই অবস্থায় বিপিএল দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।

টুর্নামেন্ট থেকে আসা অর্থ বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, মাঠের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্রিকেট উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিপিএল সম্প্রচার হওয়ায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এটি অন্য আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর নজরে আসারও বড় সুযোগ।

দর্শকদের জন্যও বিপিএলের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। এখানে বিদেশি তারকাদের দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই দলে খেলতে দেখা যায়। তার ওপর প্রতি বছর কে চ্যাম্পিয়ন হবে, সেটা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

এই অনিশ্চয়তাই সম্ভবত বিপিএলের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি শক্তি।

নিলাম ও খেলোয়াড় বাছাই যেভাবে প্রতি মৌসুমে দল বদলে দেয়

কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেখানে পুরোপুরি নিলামের ওপর নির্ভর করে, সেখানে বিপিএল বিভিন্ন মৌসুমে খেলোয়াড় বাছাই, সরাসরি খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করা এবং আগের খেলোয়াড় ধরে রাখার নিয়ম—সবকিছুর মিশ্রণ ব্যবহার করেছে।

নিয়মগুলো বারবার বদলানোর কারণে অনেক সময় এক মৌসুম থেকে আরেক মৌসুমে একটি দলকে একইভাবে অনুসরণ করা দর্শকদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে এর সুবিধাও আছে। একই ফ্র্যাঞ্চাইজি বছরের পর বছর একই শক্তিশালী দল ধরে রাখতে পারে না। বিপিএলে এতবার শিরোপা হাতবদল হওয়ার পেছনে এটাও একটি কারণ।

বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। বড় আন্তর্জাতিক তারকার পাশাপাশি এখন দেশি অলরাউন্ডার ও শেষ দিকে ম্যাচ জেতাতে পারে এমন খেলোয়াড়দেরও অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের ফাইনালে ক্রিস গেইলের অসাধারণ ইনিংস এখনো বিপিএল ফাইনালে কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্সগুলোর একটি। তবে অনেক বিদেশি ক্রিকেটার আছেন, যারা এত আলোচনায় না থেকেও পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

ভবিষ্যতে বিপিএলের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের পরিধি আরও বাড়ানো এবং অঞ্চলের অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলার নিয়ম ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার আগ্রহ রয়েছে আয়োজকদের। এসব পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বিপিএল চ্যাম্পিয়ন দলগুলো কীভাবে তৈরি হবে, তার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন

কোন দল সবচেয়ে বেশি বিপিএল শিরোপা জিতেছে?

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটি মোট চারবার বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

বিপিএলের কয়েকটি মৌসুম কেন অনুষ্ঠিত হয়নি?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের কারণে ২০১৪ সালের আসর বাতিল করা হয়েছিল। আর করোনা মহামারির বিধিনিষেধের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিপিএল ফাইনাল সাধারণত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

ঢাকার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই সবচেয়ে বেশি বিপিএল ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে

Related posts

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দ্রুত সিঙ্গেল নিচ্ছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার

স্ট্রাইক রোটেশন শুধু এক রান নেওয়া নয় কেন স্ট্রাইক রোটেশনকে অনেক সময়

ODI-র মিডল ওভারে স্পিনের বিপক্ষে স্ট্রাইক রোটেট করছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা

মিডল ওভার নীরবে কেন ODI ঠিক করে দেয় ODI-র মিডল ওভার নতুন

ODI পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক শট খেলছেন বাংলাদেশের ওপেনিং ব্যাটার

প্রথম 10 ওভার শুধু স্কোর নয়, আরও অনেক কিছু ঠিক করে বর্তমান

Recent Posts

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে উইকেটকিপিং করছেন লিটন দাস

উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে লিটন দাস: ব্যালান্স কেন গুরুত্বপূর্ণ

উইকেটকিপার-ব্যাটারের ভূমিকা পুরো একাদশ কীভাবে বদলে দেয় ICC লিটন দাসকে ডানহাতি উইকেটকিপার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে,

Read More
Scroll to Top